বিএনপি সরকার গঠন করলে ঠাকুরগাঁওয়ে বিমানবন্দর চালুর প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, খালেদা জিয়া বিশ্বাস করতেন বাংলাদেশ ছাড়া তার আর কোনো ঠিকানা নেই এবং বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মীও বাংলাদেশকেই তাদের প্রথম ও শেষ ঠিকানা মনে করে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ঠাকুরগাঁওয়ে এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনী জনসভায় এক দল আরেক দলের বিরুদ্ধে কথা বললে জনগণের কোনো লাভ হয় না। জনগণ জানতে চায়, কে মানুষের জন্য কী করবে। সে কারণেই বিএনপি জনগণের সামনে তাদের পরিকল্পনা তুলে ধরেছে এবং জনগণের শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে দেশ পুনর্গঠন করতে চায়।
তিনি জানান, বিএনপি সরকার গঠন করলে দ্রুত সময়ের মধ্যেই ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালু করা হবে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বরাতে তিনি বলেন, বিমানবন্দরের কাজ অনেক দূর এগিয়েছে এবং সরকার গঠন হলে যত দ্রুত সম্ভব এটি চালু করা হবে।
২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ওই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশকে রক্ষা করা হয়েছে, এখন সময় দেশকে এগিয়ে নেওয়ার। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মতোই ধর্মভেদ না করে সবাই ঐক্যবদ্ধ ছিল এবং ভবিষ্যতেও এ দেশে সব ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করবে। ধর্মের ভিত্তিতে কাউকে বিচার করা হবে না।
নারীদের কর্মসংস্থানে যুক্ত করা ছাড়া দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া নারীদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন। বিএনপি নারীদের স্বাবলম্বী করতে চায় এবং প্রত্যেক নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
কৃষকদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করা হবে, যাতে সহজে ঋণ পাওয়া যায়। ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করার পাশাপাশি এনজিও থেকে নেওয়া ক্ষুদ্র ঋণ সরকার জনগণের পক্ষ থেকে পরিশোধ করবে বলেও জানান তিনি।
ঠাকুরগাঁওকে কৃষিনির্ভর এলাকা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি কৃষিনির্ভর শিল্প গড়ে তোলা হবে, যাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ শ্রমিক হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। জনগণের সহযোগিতায় দেশ পুনর্গঠনই বিএনপির মূল লক্ষ্য বলে জানান দলের চেয়ারম্যান।

মন্তব্য করুন