ভোটের সুযোগ কাজে না লাগালে জুলাই বিপ্লব ভেস্তে যাবে: আব্দুল বাতেন
দশ দলীয় জোট ও জামায়াতের মনোনীত ঢাকা-১৬ আসনের প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আব্দুল বাতেন বলেছেন, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে আমাদের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে আজ আমরা দাড়ি-টুপি মাথায় দিয়ে প্রকাশ্য কথা বলতে পারছি। যা বিগত সময়ে অসম্ভব ছিল। তাই এই সুযোগ কাজে লাগাতে আসন্ন নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে হবে। নইলে জুলাই বিপ্লব ভেস্তে যাবে। একইসঙ্গে সামনের পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে। যা আমরা ইতিমধ্যেই দেখতে পাচ্ছি।
আজ মঙ্গলবার সন্ধায় মিরপুর ২ নং ওয়ার্ড কমিউনিটি সেন্টারে ইউনিট প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমরা দশটি দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। অনেকেই ঐক্যের স্বার্থে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছে। আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। একইসঙ্গে নির্বাচনের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অনুরোধ করছি। সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোন শক্তিই আমাদের পরাজিত করতে পারবে না। ইনশাআল্লাহ।
আব্দুল বাতেন বলেন, অনেকেই নির্বাচনে বল প্রয়োগ করে বিজয়ী হওয়র জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। তাদের প্রতিহত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে ভোটকেন্দ্র পাহাড়া দিতে হবে। একইসঙ্গে হাটে-বাজারে, মাঠে-ময়দানে সবখানে ভোট ও দোয়া চাইতে হবে। তার হলেই আমাদের একবক্সে ভোটের স্বপ্ন পূরণ হবে।
তিনি আরো বলেন, একটি দল আমাদের ঐক্য বিনষ্ট করতে নানান তালবাহানা করছে। আবার ভোটারদের বিভিন্ন অপার দেখিয়ে লোভ দেখানো হচ্ছে, যা কোনটাই দেশের মানুষের জন্য দরকার নাই। আমরা দেশের মানুষকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট নিতে চাই না। আমরা জনগণের কল্যাণে সবসময়ই ছিলাম। সামনেও থাকবো ইনশাআল্লাহ।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন, জামায়াতের শূরা কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ মো. নাসির উদ্দীন। তিনি বলেন, আমরা দুর্নীতিমুক্ত, সম্ভাবনা ও সম্প্রতির বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দশ দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। আমাদের ঐক্যবদ্ধ দেখে অনেকই রাম-বামদের নিয়ে কিছুটা জোট বদ্ধ হয়েছে।
নাসির বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি দুই ধারা বিভক্ত। একপক্ষ জুলাই চেতনার বাস্তবায়নে কাজ করছে। আরেক পক্ষ পুরাতন বন্দোবস্ত বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। একইসঙ্গে পরিবারতন্ত্র ও বন্দোবস্ত তন্ত্র বাস্তবায়নে তারা মরিয়া হয়ে কাজ করছে। অথচ বাংলাদেশ মানুষ এগুলো এখন আর চায় না। মানুষ নতুন ও সম্প্রতির বাংলাদেশ চায়।
তিনি আরো বলেন, একটি রাজনৈতিক দল দেশের মানুষকে কর্মহীন গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন কার্ডের অপার করছে। অথচ দেশের মানুষ কাজ করে খেতে চায়, অলসতায় দিন পার করতে চায় না। তার মানে তাদের উদ্দেশ্য ভালো নয়, এটা পরিষ্কার।
তিনি বলেন, এদেশের জন্য যারা জীবন দিতে জানে, যারা শহীদের তামান্না নিয়ে অগ্রসর হতে পারে। তাদের কোন ধাপ্পাবাজি দিয়ে লাভ নাই। কারণ বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামী সকল রক্ত চুক্ষুর সামনে দাড়িয়ে কাজ করেছে। এছাড়া এখন আমাদের সঙ্গে আরো নয় ভাই যুক্ত হয়েছে। ফলে আমরা আগেও কোন রক্তচক্ষুর পরোয়া করিনি, সামনেও করবো না। ইনশাআল্লাহ।
তিনি আরো বলেন, আপনারা যদি পুরোনো বন্দোবস্ত বাস্তবায়নের জন্য জুলাই বিপ্লবকে অস্বীকার করেন এবং প্রত্যাখান করেন, তা হলে আপনাদের মানুষ বঙ্গোপসাগরে নিক্ষেপ করবে। তাই কোন ষড়যন্ত্র করবেন না। গ্রাম-শহর সব যায়গার মানুষ সচেতন। তারা তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য সিদ্ধান্ত নিতে জানে। আপনার সুস্থ রাজনীতি করেন, কর্মসূচি করেন কোন সমস্যা নেই। তবে কোন ষড়যন্ত্র আমাদের থামিয়ে রাখতে পারবে না। ইনশাআল্লাহ।
এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, দশ দলীয় জোটের অন্যতম সমন্বয়ক ও এনসিপির যুগ্ন আহবায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব, ঢাকা-১৬ জামায়াতের সদস্য সচিব আশরাফুল আলম, এনসিপির সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক কাজী সাইফুল ইসলাম, যুগ্ন সদস্য সচিব মোহাম্মদ ওয়াহেদুজ্জামান সুমন, সদস্য সচিব সরদার আমিরুল ইসলাম, বাংলাদেশ খিলাফত মজলিসের সাবেক মনোনীত এমপি প্রার্থী মুফতি আহসানুল্লাহ কাসেমী, এবি পার্টির থানা সভাপতি মুফতি মুজাহিদুল ইসলাম, সদস্য সচিব ইসরাত জাহান লিজা, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের ফাউন্ডেশন ও আইন সম্পাদক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বাদল, খেলাফত মজলিসের এমপি পদপ্রার্থী ডা. রিফাত হোসেন মালিক, আসন পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মতিউর রহমান, এমসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সোহেল রানা ও আব্দুল্লাহ আল মুনসুর, এবং এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তরের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী মো. শেখ জামাল।
বক্তরা বলেন, আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়েছি, এটাই বড় সাফল্য। আমাদের দুনিয়াবি কোন লোভ নেই। আমরা জনগণ ও দেশের জন্য কাজ করবো। আমরা কোন পরাশক্তির পূজারি হতে চাই না। আমরা আজাদী চাই। ইনসাফ চাই। ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন করতে চাই। তবে কোন প্রতারণা করে না। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে দায়িত্ব নিতে চাই। বাতেন ভাই আমাদের জোটের প্রার্থী। তার জন্য কাজ করা আমাদের আমানত। এজন্য ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা তার জন্য কাজ করছি।

মন্তব্য করুন