৪৮ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা গেলেন যুবদলের হামলায় আহত জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিন

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ :

গাইবান্ধায় সাঘাটায় বিএনপি-যুবদলের হামলায় আহত জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিন ৪৮ দিন পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। আজ শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ৭.৪০ মিনিটে রাজধানীর ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউতে তার মৃত্যু হয়। 


এ তথ্য নিশ্চিত করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। তিনি স্ট্যাটাসে লিখেছেন,“ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রজিউন।

গাইবান্ধায় যুবদলের সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুতর আহত সালাউদ্দিন ভাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকাল ৭.৪০ মিনিটে ইন্তেকাল করেছেন। তিনি জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের কর্মী ছিলেন। উল্লেখ, গত ২১ জুন একই ঘটনায় ছাত্রশিবিরের কর্মী সাইফুল্লাহ শহীদ হন।”


জানা যায়, গত ২১ জুন গাইবান্ধায় সাঘাটায় উপজেলার বোনারপাড়া চৌরাস্তা মোড়ে স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে বিএনপি ও যুবদলের নেতা–কর্মীদের হামলায় এক শিবির নেতা নিহত ও সালাউদ্দিন নামের এক শিবির কর্মী গুরুতর আহত হন।


সেসময় পুলিশ ও একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সাঘাটা উপজেলার কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়ে রোববার বিকেলে সাঘাটা উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লার সঙ্গে বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুল মিয়ার কথা–কাটাকাটি হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানান বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ ও শিবির কর্মী সালাউদ্দিন। পরে দুই পক্ষের স্থানীয় নেতাদের সমঝোত বিষয়টি মীমাংসা হয়।


এরপর উপজেলা চত্বর থেকে সবাই চলে যান। এর কয়েক মিনিট পর শিবির নেতা সাইফুল্লাহ ও কর্মী সালাউদ্দিন বোনারপাড়া চৌমাথায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় ধারালো অস্ত্র নিয়ে সালাউদ্দিনের ওপর হামলা চালান যুবদল নেতা মুকুল মিয়া ও তাঁর ছোট ভাই পলাশ, বোনারপাড়া ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য রবিউল ইসলাম, যুবদল নেতা আশরাফ, মোনারুল, জব্বারসহ ১০ থেকে ১৩ জন। হামলাকারীরা সালাউদ্দিনের গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন।


সাইফুল্লাহ ও সালাউদ্দিন দুজনই রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে ছিলেন। স্থানীয় লোকজন আহত দুজনকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেন। এর মধ্যে শিবির নেতা সাইফুল্লাহকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত স্থানীয় যুব জামায়াতের কর্মী সালাউদ্দিনকে বগুড়া জিয়াউর রহমান হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার ইবনে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিউতে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।