জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ের কিছু স্মৃতি।

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ :
আরিফুল ইসলাম আদীব

জুলাই মাস এলে সেসময়ের সবার ভূমিকার কথাই আলোচনায় আসে এবং আসবে। কিন্তু যারা শহীদ হয়েছেন, জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের তুলনায় এগুলো কিছুই না। এই আন্দোলনে সবচেয়ে বড় হচ্ছেন শহীদরা এবং অঙ্গহারানো গাজীরা। আন্দোলন চলাকালীন আমি ‘প্রতিদিনের বাংলাদেশ’-এর রিপোর্টার হিসেবে ছিলাম এবং একই সঙ্গে তখনকার ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। ফলে একজন সাংবাদিক আবার বৃহত্তর একটি ছাত্র সংগঠনের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এবং ১৬টি ছাত্র সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র ঐক্যের তিনজন সমন্বয়কের একজন।


ফলে আন্দোলনের নেতৃত্ব, রাজনৈতিক দলগুলো, গণমাধ্যম ও সিভিল সোসাইটির মধ্যে এক ধরনের সমন্বয় বা লিয়াজোঁর দায়িত্ব পালন করে নেপথ্যের কারিগরের ভূমিকায়ই ছিলাম। ফলে আমার সম্পাদককে তখন র‍্যাবের ডিজি ফোন করে বলেছিল ও সমন্বয়কদের সমন্বয়ক তাকে ‘এনি হাউ’ আমাদের লাগবে। এই টার্গেটই তারা আমাকে তিনবার গুম করার চেষ্টা চালায়। আল্লাহর রহমতে সে যাত্রায় বেঁচে যাই। এমনিতে ১ জুলাই থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত যখন রাজপথে আন্দোলন চলছিল, সংবাদ কভার করার সঙ্গে সঙ্গে স্টেজের পেছনে কর্মসূচির ধরন বা অন্যান্য বিষয়ে মূল নেতৃত্বের সঙ্গে পরামর্শ-আলোচনা হতো। কিন্তু অনলাইন বন্ধ হয়ে গেলে আমাদের ফোনেই যোগাযোগ করতে হতো। 

১৮ ও ১৯ জুলাই নাহিদ ইসলামের সঙ্গে আমার দীর্ঘ আলাপ-আলোচনা হয়, কীভাবে আন্দোলনের বার্তা আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় পাঠানো যায়, রাজনৈতিক দলগুলো কী করবে, সেনা মোতায়েন হলে কীভাবে কাজ হবে, সেসব বিষয়ে। ১৯ জুলাই রাত সোয়া ১টার দিকে নাহিদের সঙ্গে কথা হলো, এরপরই নাহিদকে তুলে নিয়ে গেল। তার ফোনে আমার কনভারসেশন পাওয়ায় আমি টার্গেটে পরিণত হই। এরপর থেকেই ফেরারি জীবন শুরু। আজ এক জায়গায় কাল আরেক জায়গায়। বাটন ফোন সঙ্গে নিয়ে এক জাগায় গিয়ে ফোন দিয়ে আবার জায়গা পরিবর্তন। এ রকম জীবনই ছিল আমার অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শপথ নেওয়া পর্যন্ত।


বিস্তারিত : https://protidinerbangladesh.com/opinion/177030/three-attempts-forcibly-disappear