নির্বাচন–২০২৬: কেমন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী চাই
বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার বড় অংশ তরুণ। এই তরুণ সমাজই দেশের প্রধান শক্তি এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি। একইভাবে খেলাধুলা একটি জাতির শৃঙ্খলা, ঐক্য এবং আন্তর্জাতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই নির্বাচন–২০২৬ সামনে রেখে প্রশ্ন উঠেছে—*আমরা কেমন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী চাই…?
বর্তমান সময়ে যুবসমাজ নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বেকারত্ব, দক্ষতার অভাব, মাদকাসক্তি ও হতাশা তরুণদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একজন যোগ্য যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রীর দায়িত্ব হবে তরুণদের এসব সমস্যা চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত সমাধান নিশ্চিত করা। যুব উন্নয়ন মানে শুধু বক্তৃতা বা প্রতিশ্রুতি নয়, বরং প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং তরুণদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ।
অন্যদিকে দেশের ক্রীড়া অঙ্গনে প্রতিভার অভাব নেই, কিন্তু প্রয়োজন যথাযথ পরিকল্পনা ও সুযোগ। তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলা বিস্তারের মাধ্যমে প্রতিভা অন্বেষণ, আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রস্তুতি নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রধান অগ্রাধিকার। প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় মাঠ ও ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়ন ছাড়া খেলাধুলার কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি সম্ভব নয়।
এ ছাড়া ক্রীড়া প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা সময়ের দাবি। দুর্নীতি, দলীয়করণ ও অনিয়মের কারণে দেশের ক্রীড়া ক্ষেত্র বহুবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একজন আদর্শ মন্ত্রী হবেন সৎ, সাহসী এবং জনবান্ধব—যিনি যোগ্যতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন এবং ক্রীড়া সংগঠনগুলোকে সুশাসনের আওতায় আনবেন।
নারী ক্রীড়াবিদদের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি এবং প্রতিবন্ধী ও প্রান্তিক তরুণদের অন্তর্ভুক্ত করাও জরুরি। খেলাধুলা কেবল কিছু মানুষের জন্য নয়—এটি সমাজের সকল স্তরের মানুষের অধিকার।
নির্বাচন–২০২৬ এ আমরা এমন একজন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী চাই, যিনি তরুণ সমাজকে দক্ষ, সচেতন ও কর্মমুখী করে গড়ে তুলবেন এবং খেলাধুলাকে জাতীয় গৌরবের আসনে পৌঁছে দিতে দৃঢ় ভূমিকা পালন করবেন। যোগ্য নেতৃত্বই পারে তরুণদের স্বপ্নকে বাস্তবতায় রূপ দিতে।
শেষ কথা:
আমরা এমন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী চাই, যিনি তরুণদের স্বপ্নকে শক্তিতে রূপ দেবেন, খেলাধুলাকে সম্মান ও পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবেন এবং স্বচ্ছ, দক্ষ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নেতৃত্ব দেবেন।

মন্তব্য করুন