নির্বাচন–২০২৬: কেমন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী চাই

ইঞ্জি: মো: মিজানুর রহমান
প্রকাশ :
ইঞ্জি: মো: মিজানুর রহমান

স্বাস্থ্যসেবা কোনো বিলাসিতা নয়—এটি রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব এবং নাগরিকের অবিচ্ছেদ্য অধিকার। একটি দেশের উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হয়, যখন সাধারণ মানুষ নিরাপদ, সুলভ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পারে। অথচ বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত আজও সংকট, অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের ভারে জর্জরিত। এই বাস্তবতায় নির্বাচন–২০২৬ সামনে রেখে প্রশ্নটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে—আমরা কেমন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী চাই…?

দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যখাতের অন্যতম বড় সমস্যা হলো দুর্নীতি, দালালচক্র, অব্যবস্থাপনা এবং সেবার মানহীনতা। সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় ওষুধ নেই, জনবল সংকট প্রকট, রোগীরা চিকিৎসা নিতে গিয়ে হয়রানির শিকার হন। চিকিৎসা ব্যবস্থা যেন সাধারণ মানুষের জন্য নয়, বরং একটি সীমিত গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রিত বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে। এই অচলাবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে হলে প্রয়োজন এমন একজন মন্ত্রী, যিনি কেবল প্রশাসক নন—বরং সংস্কারক ও জনতার প্রতিনিধি।

স্বাস্থ্যখাতে প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা। হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান ছাড়া স্বাস্থ্যসেবায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব নয়। মন্ত্রণালয়কে হতে হবে জনমুখী, নয়তো স্বাস্থ্যখাতের সংকট আরও গভীর হবে।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা শহরকেন্দ্রিক রেখে চলবে না। গ্রামাঞ্চলের উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোকে কার্যকর ও আধুনিক করতে হবে। মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুস্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচিকে শক্তিশালী না করলে সুস্থ জাতি গঠন অসম্ভব। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য চিকিৎসা নিশ্চিত করাই হবে একটি কল্যাণরাষ্ট্রের প্রকৃত পরিচয়।

চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করাও জরুরি। স্বাস্থ্যখাতের মানবসম্পদ উন্নয়ন ছাড়া কোনো কাঠামোই টেকসই হতে পারে না। পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর যথাযথ নিয়ন্ত্রণ ও মান নির্ধারণে রাষ্ট্রকে কঠোর ভূমিকা নিতে হবে, যাতে চিকিৎসা ব্যবসা নয়, সেবা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যব্যবস্থার দিকে। ডিজিটাল সেবা, টেলিমেডিসিন, গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ বাড়ানো ছাড়া আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। একজন দূরদর্শী মন্ত্রীকে স্বাস্থ্যখাতকে আধুনিকায়ন ও সংস্কারের পথে এগিয়ে নিতে হবে। জনগণ আর প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব পরিবর্তন চায়। নির্বাচন–২০২৬ এ আমরা এমন একজন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী চাই, যিনি মানবিক, দক্ষ, সাহসী ও দুর্নীতিমুক্ত নেতৃত্ব প্রদান করবেন। স্বাস্থ্যসেবাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে উন্নয়নের সব দাবিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।