ব্রেস্ট ক্যানসার কি বংশগত রোগ?

ডা: ইসমাত জাহান লিমা
প্রকাশ :

অনেকেই মনে করেন ব্রেস্ট ক্যান্সার শুধুই বংশগত রোগ। বাস্তবে, সব ব্রেস্ট ক্যান্সার বংশগত নয়। গবেষণায় দেখা যায়, মাত্র ৫-১০% ব্রেস্ট ক্যান্সার সরাসরি জিনগত বা বংশগত কারণে হয়ে থাকে। বাকি অধিকাংশ ক্ষেত্রে জীবনযাপন, বয়স, হরমোনজনিত পরিবর্তন এবং অন্যান্য পরিবেশগত কারণ ভূমিকা রাখে। 


অনেকের ধারণা ব্রেস্ট ক্যান্সার তেমন একটা সাধারণ বেপার না। কিন্তু বিশ্বজুড়ে এটি দ্বিতীয় সর্বাধিক প্রচলিত ক্যান্সার হিসেবে চিহ্নিত ‌‌। প্রতি ২০ জন নারীর মধ্যে একজন নারী তার জীবনে কোনো না কোনো সময় এ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয় ‌‌। তার পরেও এই রোগটি নীরব ভাবে জীবন কেড়ে নিচ্ছে ।


ব্রেস্ট ক্যান্সার হওয়ার মূল কারণগুলো কি ?

জেনেটিক কারণ বাদে অন্যান্য যেসব বিষয় যার কারণে ব্রেস্ট ক্যান্সার হতে পারে:


০১. হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপির ওষুধ অথবা হরমোনাল জন্ম নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতির কারণে ঝুঁকি বাড়তে পারে।

০২. খুব অল্প বয়সে মাসিক শুরু হওয়া অথবা বেশি দেরিতে মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়া।

০৩. দেরিতে সন্তান নেওয়া।

০৪. নিত্যদিনের কিছু বাজে অভ্যাস যেমন ধূমপান, ব্যায়াম না করা, অতিরিক্ত মদ্যপান।


ব্রেস্ট ক্যান্সার কি প্রতিরোধ করা যায়...?

অনেক কারণ আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে তবে নিত্যদিনের জীবনযাপনে কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস আমাদের এই ঝুঁকি কমাতে পারি । নিয়মিত পরিমান মত খাবার, ঠিকমতো ব্যায়াম করা ও ধূমপান এবং মদ্যপান থেকে বিরত থাকলে ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে যাওয়ার অনেক বেশি সম্ভাবনা থাকে ।


ব্রেস্ট ক্যান্সারের লক্ষণ গুলো কি...?


নারীদের ক্ষেত্রে ব্রেস্ট ক্যান্সারের লক্ষণ গুলো কি....?

০১. স্তন, বগল অথবা কাঁধের হাড়ের কাছে অস্বাভাবিক লাম্প।

০২. স্তনের আকার বা আকৃতিতে পরিবর্তন।

০৩. ত্বকে লালচে ভাব বা অস্বাভাবিক ভাঁজ পড়া।

০৪. নিপল এর পাশের ত্বকে খসখসে ভাব।

০৫. নিপল থেকে স্রাব বা ব্যথা।

০৬. নিপল ভেতরের দিকে ঢুকে যাওয়া অথবা ব্যথা।


পুরুষদের ক্ষেত্রে ব্রেস্ট ক্যান্সারের লক্ষণ গুলো কি...?

০১. স্তনে লাম্প বা ফোলা।

০২. ত্বকের লাল ভাব, খসখসে হওয়া বা ডিম্পল তৈরি হওয়া।

০৩. নিপল থেকে স্রাব।

০৪. নিপলে ব্যথা বা ভেতরের দিকে ঢুকে যাওয়া।


কিভাবে ঘরে বসে দ্রুত সেল্ফ এক্সামিনেশন করবেন....

ঘরে বসে ব্রেস্টের সেল্ফ এক্সামিনেশন করা খুব জরুরী কারণ এটি হচ্ছে প্রথম ধাপ কোন ধরনের টিউমারের ধরা পড়ার জন্য। 


মনে রাখবেন, পরিবারের ইতিহাস না থাকলেও ব্রেস্ট ক্যান্সার হতে পারে। তাই সচেতনতা, নিয়মিত স্ক্রিনিং এবং দ্রুত চিকিৎসাই ঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।


বাংলাদেশে নারীদের মৃত্যুর প্রধান কারণ হচ্ছে ব্রেস্ট ক্যান্সার। যখন পরিবারের কোন সদস্য এই রোগে আক্রান্ত হয় তখন মনে প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক, “ব্রেস্ট ক্যান্সার কি বংশগত..?”