প্লাস্টিকের বোতল জমা দিলেই মিলছে গাছের চারা

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ :

সকালে রাজধানীর মহাখালীর টি অ্যান্ড টি মাঠে ১০ দিনব্যাপী এই বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সেলিম উদ্দিন নিজে ফলজ, বনজ ও ওষুধি—এই ৩টি গাছের চারা রোপণ করেন এবং উপস্থিত জনসাধারণের কাছ থেকে খালি প্লাস্টিকের বোতল গ্রহণ করে তাদের হাতে উপহার হিসেবে গাছের চারা তুলে দেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন,

"প্লাস্টিক বর্জ্যের সঠিক পুনর্ব্যবহার (Recycle) নিশ্চিত করা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধিই আমাদের এই ব্যতিক্রমী কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। পরিবেশ সংরক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং দূষণমুক্ত নগরী গঠনে জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা ঢাকাকে আরও সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।"

তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, দূরদর্শী পরিকল্পনা ও দক্ষ নেতৃত্বের অভাবে ঢাকা এখনো পুরোপুরি বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত হতে পারেনি। বায়ুদূষণ, যানবাহনের কালো ধোঁয়া, শব্দদূষণ এবং অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নগরবাসীর জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। দুর্নীতিবাজদের মাধ্যমে কখনো টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও মানবিক নগরী গড়তে দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন প্রতিষ্ঠার তাগিদ দেন।


পরিবেশ রক্ষায় তরুণ ও যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে মহানগরী আমীর বলেন, যুবসমাজকে সাথে নিয়েই পরিবেশ আন্দোলনকে বেগবান করতে হবে। তিনি প্রতিটি ভবনে ছাদবাগান গড়ে তোলা, বৃক্ষরোপণ বৃদ্ধি এবং বর্জ্য পুনর্ব্যবহারে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। একই সাথে তিনি রাজধানীতে বছরে অন্তত একদিন ‘যানবাহনমুক্ত দিবস’ পালনের দাবি জানিয়ে বলেন, ওই দিন যান্ত্রিক যানবাহনের পরিবর্তে সাইকেল ও পায়ে হাঁটার সংস্কৃতি উৎসাহিত করা হলে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর দারুণ ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।



ঢাকা মহানগরী উত্তর যুব-ক্রীড়া বিভাগের সভাপতি ইয়াসিন আরাফাতের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার, ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, যুব বিভাগের সহ-সভাপতি ডা. মাঈনুদ্দীন, বনানী থানা আমীর মিজানুর রহমান খান

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা বলেন, পরিবেশ রক্ষা ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে অবিলম্বে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। কেবল প্রশাসনের ওপর ভরসা না করে, নগরবাসীর সম্মিলিত ও সচেতন উদ্যোগই একটি বাসযোগ্য ঢাকা গড়ার প্রধান হাতিয়ার।